তাঁত শিল্পের আদি কথন
সংস্কৃত ‘তন্তু’ থেকে বাংলা ‘তাঁত’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে বঙ্গীয় শব্দকোষ-এ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত তাঁতযন্ত্রের নানা রকম প্রকারভেদ আছে। যেমনপিট লুম বা গর্ত তাঁত, ফ্রেম লুম, চিত্তরঞ্জন বা জাপানি তাঁত, কোমর তাঁত ইত্যাদি। প্রাচীনতার দিক দিয়ে পিট লুম বা গর্ত তাঁতকে বাংলা অঞ্চলের আদি তাঁত বলা যেতে পারে। বাংলার বিখ্যাত মসলিন ও অন্যান্য বস্ত্র এই পিটলুম বা গর্ত তাঁতেই তৈরি হতো। সাধারণ বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি সহজলভ্য জিনিস দিয়েই এই তাঁত তৈরি হতো। ঢাকার কাছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে রূপগঞ্জ-সোনারগাঁ অঞ্চলে এখনো সাধারণ গর্ত তাঁতেই নকশাদার জামদানি শাড়ি বয়ন করা হয়।
বাংলাদেশে ফ্রেম লুম, চিত্তরঞ্জন বা জাপানি তাঁত এবং সেই সঙ্গে ফ্লাই সাটল, ডবি বা জ্যার্কাড মেশিন ইত্যাদির প্রচলন ঘটেছে অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালে।মোটামুটি বিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বঙ্গীয় শিল্প ও কৃষি বিভাগের নানা তৎপরতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁতযন্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটেছে। শাড়ি তৈরির কৃৎকৌশলেও এই আধুনিকতার প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে নরসিংদী, টাঙ্গাইল কিংবা সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব শাড়ি ও অন্যান্য বস্ত্র বয়ন করা হয়, তা এই সব ভিনদেশি কৃৎকৌশল রপ্ত ও আত্মস্থ করে বাংলাদেশের তাঁতিরা তাঁদের কাজের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
Comments
Post a Comment